স্বপ্নের ভেতর জেগে উঠে

Posted in কবিতা with tags on Wednesday, December 12, 2012 by তারেক
অন্ধকার কথা বলছে, আমি দেখে নিচ্ছি ধূসর আকাশ
বৃষ্টি হবে, জলীয় বাতাসে মিশে যাচ্ছে আলো, তার অস্ফুট কণ্ঠ শুনছি
যেন শতাব্দীর ওপার থেকে পরিচয় মুছে আসছে স্বপ্ন
এই আমার জন্ম, এইখানে বেঁচে আছে কোলাহলের আড়ালে যে নীরবতা,
যে অন্তর্লীন প্রেক্ষিতে মিশে আছে মৃত্যু আর নিস্তব্ধতার গান
সেইখানে আমি বিবিধ বিষাদের প্রলোভন এড়িয়ে যাই,
আমি-ই যাই, আর তাই দ্বিধার অন্বয়, অহং এর ঊর্ধ্বে ও নিম্নে নেমে দেখি
সমস্ত স্থিরীকৃত অন্ধকার, জমাট, বৃষ্টির একমাত্র ফোঁটা—অনির্দিষ্ট
আছে জেনে স্বপ্নের ভেতর তলিয়ে যেতে পারি আরো
অবিচল, ক্রমের শেষে, তখনও, হয়ত অস্পষ্ট, তবুও থেকে যায়

আগুন নক্ষত্র বাতাস ও বৃষ্টির ভালোবাসা।

অসম্পর্কিত

Posted in কবিতা on Tuesday, August 9, 2011 by তারেক

স্মৃতি নিয়ে কারা ঘুরে ঘুরে ঘুরে ঘুরে যায়
রাত্রির গভীর, সকাল থেকে বিকেল অবধি
উন্মীলিত ধোঁয়ায় ঘনিয়ে ওঠা বিস্মৃতির গহন থেকে
উঠে আসে এক একটা দিন।
কারা যায়, কারা আসে,
কারা থেকে যায়…
কেবলই ধোঁয়া জমে আসে
সম্মুখ দৃশ্যাবলির ভিতর
আরো দূর ভাসমান বৃন্তচ্যূত জলজের মতো
আরো দূরপ্রবাহী অপেক্ষার ভরসার মতো
কারা চলে যায়, যে যার মতো একা?

রাতের অন্তর্লীনে

Posted in কবিতা on Sunday, July 24, 2011 by তারেক
দীর্ঘ রাত্রিটির শরীর তোমাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে আরো স্থায়ী আঁধারে
যেখানে মরালির একটিমাত্র পালক জলের কিনারে সকাল, টলমল।
অমানিশার শেষ ঘন্টাধ্বনি থেমেছে কোথাও— এই স্থবিরতা কতকাল
দেখেছি একা। কখনো ভাবিনি এও এক ভাষা তার, তোমাকে জানাবার, এইসব সত্য
নীরবে বলা হয়ে গ্যাছে—সমস্ত শীতরাত্রির শেষে যেমন হিম থেকেই যায়; যত
আলোকিত হও—নগ্নতার নিরপেক্ষ বিভাব, যতো নির্জনে যাও—কোলাহল থেকে দূরে
তার চেয়েও গভীরে সন্তরিত মনের বিষাদ—একবার ছুঁয়ে দ্যাখো যদি পারো!
অস্পৃশ্য যা নয়, যা-কিছু মমতায় জেনেছো, স্নিগ্ধ হয়ে আছে বরফশীতল।
এই দেহ বহুকাল সময়ের ভেদচিহ্ন ভুলে বিরহে লীন হয়নি এখনও;
দূরত্ব, ভালোবাসে অন্ধকার। বাতাসের আর্দ্রতা বাড়ে। আমি রোদের আঁচে
উজ্জ্বলতর কোনো আগুনের কথা ভাবি—দিঘিতে আকাশ তবুও সবুজ পত্রালি
আর আমি জেনেছি রাত্রির মানে অনুপস্থিত সব রঙ আঁধারে মিশে থাকে একাকার।

ভাগশেষ

Posted in কবিতা with tags on Wednesday, July 6, 2011 by তারেক

আমাকে লুকাতে পারো, ছায়াকে নয়
অবিনশ্বরতার মোহে ছায়ারা বেঁচে থাকে।

যা কিছু স্পর্শের অতীত, এই আলো, অন্ধকার
যা কিছু ছায়াদৃশ্যের জন্ম দেয়, চলমান ও নিশ্চল
সময় ও প্রতীকের বিরোধ
থেকে যায়;
যা থাকে না সেখানেই আমি থাকি পুরোপুরি।

গলন্ত শবের গায়ে রোদ পোড়ে;
সান্ধ্যহাওয়ায় দ্বিধামলিন স্মৃতিকাতরতা
ক্রমশ মুছে দেয় অনুভূতির বিষাদ
অথচ কী থেকে যায়
আমি আজো স্থির করতে পারিনি—
ছায়া না ছায়াশরীরের অভিক্ষেপ,
না কেবলই স্পর্শের অনুভূতি!

নাকি এমন কিছু, অক্ষর যার শরীর নির্মান করতে পারেনি;
বরং আভাস দিয়ে হারিয়ে গেছে
ইন্দ্রিয় যেরকম বিকলাঙ্গ শিশুর মতো সরল হাসে।

বাতাসে শিরশির শব্দ।

হ্যালোজেন বাতির বিচ্ছুরিত সবুজ আলোয়
আমি ও অন্য মানুষগুলো শুধু ছায়া নির্মান করে যাই—
অন্যত্র থেকে অন্যত্রে।

সংশয়ে

Posted in কবিতা with tags on Wednesday, July 6, 2011 by তারেক

ভেঙে যাচ্ছে ভেতরের প্রাচীন প্রাচীরসমূহ
হার্মাদ ঘোড়াদের পরিকল্পিত অগ্রসরতা
মাটি ও উপত্যকার বাতাসে
বিকেলের নিরপেক্ষ রোদ দেখে যাচ্ছে
আমার বিশ্বস্ত বিশ্বাস;
আমার স্বস্তি, সান্ত্বনা, আকাশ দেখার
টেলিস্কোপ আর আবশ্যিক অন্ধকার
মারা যাচ্ছে

আমাদের বিপন্ন ভেসে যাওয়া
যখন বুক ভার করে দাঁড়াবে,
কিছু প্রাচীন পাহাড়
বর্ষায় তুমুল বৃষ্টি
বৃষ্টিপরবর্তী নীল সমুদ্রতট;

ঘোড়া ও প্রাচীর, ভাঙন ও স্রোতের নিবিড় সম্পর্কে
তুমি অবিশ্বাস করে যেও।

সিমিলি

Posted in কবিতা with tags on Sunday, July 3, 2011 by তারেক

স্বরগত বিভূতি তোমার, আমি স্থির নৈঃশব্দ্য
এই মন্দির টেরাকোটা নামহীন নির্মাণ
তোমার শর কৃপাণ বুকে বিঁধে আছে।
জড়োসড়ো সূর্যের দিনে আমি প্রলম্বিত লয়
স্থিরচিত্র নয়
শরীরমগ্ন চৈতন্যের ছায়া।
মেঘ ও পারাবত যুগপৎ ভেসে যায়
সোনালি আকাশে;
আমি স্রোতচিহ্ন
রুপোলি জলে ফেনায়িত শাদা।
তুমি রথ নিয়ে ছুটেছ স্বপ্নমৃগয়ায়;
তূণীর ছেঁড়া বিভঙ্গে
ছিঁড়েখুঁড়ে দিয়েছ হৃদয়।
বিবিধ দিন শোকচিহ্নগুলোর ওঠানামা, ঋতুর পর্যায়ক্রম
তোমাকে শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে যাওয়া অনিকেত জোছনায়।
মোহরের মতো উজ্জ্বল ঝরে যায় প্রান্তর সমুদ্র চন্দ্র মন্দির।
আমার নিবাস যে আকাশে তার গায়ে গায়ে নির্লিপ্তি নেমে আসে
যেন সেমেটারি থেকে ফিরে ক্লান্ত; বিকেলজুড়ে ঘুমিয়ে যাচ্ছে কন্যা।